টিপস

অনলাইনে প্রাইম ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম (অ্যাপ, ওয়েবসাইট)

সুপ্রিয় পাঠকবৃন্দ, আপনাদেরকে নতুন আরেকটি অনুচ্ছেদে স্বাগতম। আপনার অনেকেই আছেন যারা অনলাইনে প্রাইম ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম জানতে চান। আপনাদের সুবিধার জন্য আমার আজকের অনুচ্ছেদে অনলাইনে প্রাইম ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোচনা তুলে ধরব। প্রাইম ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে আমার সম্পূর্ণ লেখাটি মনোযোগ সহকারে পড়ার অনুরোধ রইল।

প্রাইম ব্যাংকে একাউন্ট করার সুবিধা

প্রাইম ব্যাংকে একাউন্ট খুললে একজন গ্রাহক নানান ধরনের সুবিধা পেয়ে থাকেন। এ সকল সুবিধার কারণে অধিকাংশ গ্রাহক বেসরকারি ব্যাংক হিসেবে prime bank কে বেছে নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। প্রাইম ব্যাংকে একাউন্ট করলে যে সকল সুবিধা পাওয়া যাবে-

  • চেকবুকের সুবিধা
  • ডেবিট কার্ড সুবিধা
  • একাউন্ট খোলার সময় মাত্র ৫০০ টাকা ব্যালেন্স
  • সমস্ত প্রাইম ব্যাংকের এটিএম থেকে প্রতিদিন এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত তোলার সীমা
  • বিনামূল্যে ইন্টারনেট
  • ব্যাংকিং সুবিধার মাধ্যমে সহজ এবং তাৎক্ষণিক তহবিল স্থানান্তর সুবিধা
  • লকার সুবিধা
  • মোবাইল রিচার্জ করার সুবিধা
  • সহজে বিল পেমেন্ট করার সুবিধা
  • বিনামূল্যে মাসিক স্টেটমেন্ট সুবিধা
  • ২৪ ঘন্টা কাস্টমার কেয়ারের সাথে যোগাযোগ করতে পারার সুবিধা
  • স্থায়ী নির্দেশের ব্যবস্থায় তহবিল স্থানান্তর এবং ই-কমার্স এর সুবিধা।

প্রাইম ব্যাংক সেভিংস একাউন্ট

গ্রাহকদের টাকা জমা করার জন্য প্রাইম ব্যাংক সেভিংস একাউন্ট সুবিধা প্রদান করে থাকে। সেভিংস অ্যাকাউন্টে একজন গ্রাহক নির্দিষ্ট সময় অন্তর অর্থ জমা করতে পারেন। জমাকৃত অর্থের উপর প্রাইম ব্যাংক গ্রাহককে নির্দিষ্ট হারে মুনাফা প্রদান করে থাকে। ১৮ বছর বা ততোধিক বয়সের যেকোনো বাংলাদেশী নাগরিক প্রাইম ব্যাংকে সেভিংস একাউন্ট খুলতে পারেন।

প্রাইম ব্যাংক কারেন্ট একাউন্ট(Prime Bank Current Account)

যে সকল গ্রাহক প্রতিনিয়ত ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করে থাকেন তাদের জন্য প্রাইম ব্যাংক কারেন্ট একাউন্টের ব্যবস্থা রেখেছেন। কারেন্ট একাউন্ট এর মাধ্যমে একজন গ্রাহক যেকোনো সময় একাউন্টে টাকা জমা করতে পারেন কিংবা অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলন করতে পারেন। এক্ষেত্রে গ্রাহককে বার্ষিক ভিত্তিতে নির্দিষ্ট সার্ভিস চার্জ প্রদান করতে হয়। ১৮ বছরের অধিক বয়সসম্পন্ন যে কোন বাংলাদেশী নাগরিক প্রাইম ব্যাংক কারেন্ট একাউন্ট খুলতে পারেন।

প্রাইম ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম ( Prime Bank account Kholar Niyom)

বাংলাদেশে প্রচলিত অন্যতম বেসরকারি এটি ব্যাংকের নাম প্রাইম ব্যাংক। প্রাইম ব্যাংক গ্রাহকদের মাঝে নানান ধরনের সুবিধা প্রদান করে থাকেন। এ সকল সুবিধার কারণে অনেক গ্রাহকই প্রাইম ব্যাংকে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে হিসেবে বেছে নেন। কিন্তু অনেকেই জানেন না কিভাবে প্রাইম ব্যাংকে একাউন্ট খোলা যায়। আপনি যদি প্রাইম ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম জানতে চান তাহলে আপনাকে আমার অনুচ্ছেদে স্বাগতম। কেননা আমার আজকের অনুচ্ছেদ মনোযোগ সহকারে পাঠ করলে আপনি খুব সহজেই প্রাইম ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম বুঝতে পারবেন।

প্রাইম ব্যাংকের একাউন্ট অফলাইন এবং অনলাইন দুই ভাবেই করা যায়। প্রাইম ব্যাংক গ্রাহকদের জন্য দুই ধরনের একাউন্ট সুবিধা দিয়ে থাকেন। একটি হলো কারেন্ট একাউন্ট এবং আপরটি হল সেভিংস একাউন্ট। একজন গ্রাহক প্রাইম ব্যাংক থেকে যেকোনো একটি একাউন্ট খুলতে পারবেন।

আপনার নিকটস্থ প্রাইম ব্যাংকে চলে যান সকল ডকুমেন্ট গুলো সাথে নিয়ে। প্রাইম ব্যাংকের শাখায় গেলে তারা আপনাকে একটি একাউন্ট করার জন্য এবং ফর্ম পূরন করতে সবরকম সাহায্য করবে। ফর্মটি পূরণ হলে আপনি তা ব্যাংকে আপনার ডকুমেন্টস সহ জমা করে দিন। এরপর তারা সময় নিয়ে আপনার একাউন্ট ওপেন করে দিবে।

প্রাইম ব্যাংকে অনলাইনে একাউন্ট খোলার নিয়ম আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম। একাউন্ট খোলার জন্য প্রথমে আপনাকে এই লিংকে প্রবেশ করতে হবে। অতঃপর Apply now বাটনে ক্লিক করতে হবে। তারপর মোবাইল নম্বর দিয়ে ভেরিফাই করতে হবে। অতঃপর OTP সাবমিট করতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্রের উভয় দিকের ছবি তুলে আপডেট বাটনে ক্লিক করতে হবে। সর্বশেষ আপনার নিজের ছবি তুলে আপলোড দিতে হবে।

প্রাইম ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য যে সকল কাগজপত্র প্রয়োজন:

  • অ্যাকাউন্ট খোলার ফরম পূরণ করতে হবে।
  • যিনি একাউন্ট খুলতে চাচ্ছেন তার সব প্রত্যাহিত সাম্প্রতিক সময় তোলা পাসপোর্ট সাইজের দুই কপি ছবি লাগবে।
  • নমিনির সাম্প্রতিক তোলা পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগবে।
  • নমিনির জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি লাগবে।
  • একাউন্ট মালিকের জাতীয় পরিচয় পত্র বা পাসপোর্ট বা জন্ম নিবন্ধন এর ফটোকপি লাগবে।
  • ই-টিআইএন সার্টিফিকেট লাগবে (যদি থাকে)।
  • অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের আয়ের প্রমাণস্বরূপ নথি লাগবে।
  • অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের বর্তমান আবাসিক ঠিকানার প্রমাণ সাপেক্ষে ইউটিলিটি বিলের সাম্প্রতিক কপি লাগবে।

শর্তসমূহ:

  • বাংলাদেশে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী চুক্তি করার ক্ষমতাসম্পন্ন প্রাইম ব্যাংক শাখার নিয়ন্ত্রণ এলাকায় বর্তমানে বসবাসকারী বাংলাদেশী নাগরিকরা।
  • ১৮ বছরের বেশি বয়সী।
  • একটি বৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র/পাসপোর্ট/জন্ম নিবন্ধন সনদ থাকতে হবে।
  • আপনার নামে নিবন্ধিত একটি বৈধ এবং সক্রিয় স্থানীয় মোবাইল নম্বর থাকতে হবে।
  • আপনার নামে একটি সক্রিয় ই-মেইল আইডি থাকতে হবে।
  • (মোজিলা ফায়ারফক্স, গুগল ক্রোম ইত্যাদি) ব্রাউজারগুলির সর্বশেষ সংস্করণ ব্যবহার করতে হবে।

কীভাবে চেক বইয়ের জন্য আবেদন করতে পারবো?

আপনাকে অন্যান্য সার্ভিসের অপশনগুলোর মধ্য থেকে চেক বই অপশনটি নির্বাচন করতে হবে। তবে চেক বইটি পেতে আপনাকে নিম্নলিখিত নির্দেশনাবলি অনুসরণ করতে হবে:

  • আপনার একাউন্টে সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা ব্যালেন্স থাকতে হবে
  • প্রাইম ব্যাংক -এর যে শাখাটি নির্বাচন করবেন, আপনাকে সে শাখায় যেতে হবে
  • চেকবই প্রস্তুত হওয়ার পর আপনি একটি কনফার্মেশন এসএমএস পাবেন
  • আপনার নির্বাচিত প্রাইম ব্যাংক শাখায় গেলে ভেরিফিকেশনের পর চেক বইটি আপনার হাতে তুলে দেওয়া হবে

শেষ কথা: প্রাইম ব্যাংক গ্রাহকদের জন্য অনলাইন এবং অফলাইন মিলিয়ে দারুন কিছু সুবিধা প্রদান করে থাকে। সেই সাথে গ্রাহকের অর্থ নিরাপত্তাও প্রদান করে থাকে। এজন্য অনেকেই প্রাইম ব্যাংক একাউন্ট খোলার আগ্রহ প্রকাশ করে থাকেন। কিভাবে অনলাইনে প্রাইম ব্যাংক একাউন্ট খোলা যায় এ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য আজকের অনুচ্ছেদে উপস্থাপন করলাম। আশা করি অনুচ্ছেদটি আপনাদের উপকারে আসবে। লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করে অন্যদের জানানোর সুযোগ করে দেবেন। আরও বিভিন্ন তথ্য পেতে আমাদের সাথেই থাকুন, ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *