টিপস

পহেলা ফাল্গুন নিয়ে উক্তি ও পহেলা ফাল্গুনের শুভেচ্ছা বার্তা

আপনারা আমার এই অনুচ্ছেদ হতে পহেলা ফাল্গুন নিয়ে উক্তি ও পহেলা ফাল্গুন নিয়ে শুভেচ্ছা বার্তা সংগ্রহ করতে পারবেন । তাই আপনারা যারা পহেলা ফাল্গুন নিয়ে উক্তি এবং পহেলা ফাল্গুন নিয়ে শুভেচ্ছা বার্তা অনুসন্ধান করে আমার এই অনুচ্ছেদে এসেছেন তাদের সকলকে স্বাগতম। প্রতিবছর বাংলাদেশের ব্যাপকসহ মধ্য দিয়ে পহেলা ফাল্গুন পালন করা হয়।

বাংলা বর্ষ তালিকা ফাল্গুন মাসের প্রথম দিনটিকে পহেলা ফাল্গুন বা বসন্ত বরণ হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে। ঋতুরাজ বসন্তকে সাদরে গ্রহণ করার জন্য এই পহেলা ফাল্গুনের উৎসবের আয়োজন করা হয়ে থাকে। দিনের শুরুতে বসন্ত পরিষদ উদযাপন কমিটি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পহেলা ফাল্গুনের ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণের মধ্য দিয়ে দিবসটির সূচনা করে। আসুন আমরা পহেলা ফাল্গুন নিয়ে বিখ্যাত কিছু উক্তি এবং পহেলা ফাল্গুনের শুভেচ্ছা বার্তাগুলো সংগ্রহ করে নেই।

পহেলা ফাল্গুন হল বাংলাদেশ এবং ভারতের কিছু অংশে উদযাপিত একটি বসন্ত উৎসব। উৎসবটি বাংলা মাসের ফাল্গুনের 13 তারিখে উদযাপিত হয়, যা সাধারণত ফেব্রুয়ারি মাসে পড়ে। এটি বসন্তের আগমনের একটি উদযাপন এবং সঙ্গীত, নৃত্য এবং সাংস্কৃতিক উত্সব উপভোগ করার জন্য লোকেদের তাদের বন্ধু এবং পরিবারের সাথে জড়ো হওয়ার একটি সময়।

উৎসবটি মহিলাদের দ্বারা হলুদ এবং লাল শাড়ি পরা এবং রঙিন ফুল এবং আলো দিয়ে বাড়ি এবং পাবলিক স্পেস সাজানোর দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। পহেলা ফাল্গুন জীবনের নবায়নের প্রতীক এবং বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

Related Articles

পহেলা ফাল্গুন নিয়ে উক্তি

পহেলা ফাল্গুন কবি সাহিত্যিকদের জন্য সবথেকে আদর্শ একটি ঋতু। ঋতু যেমন প্রকৃতি এক অপরূপ সৌন্দর্যের মধ্যে আবির্ভূত হয় ঠিক তেমনি কবি সাহিত্যিকদের মন এই ঋতুতে অভিভূত হয়ে ওঠে। এ সময় তারা বিভিন্ন ধরনের কবিতা গল্প লিখতে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। তাই আজকের এই অনুচ্ছেদে আমরা অবহেলা ফাল্গুন নিয়ে বিখ্যাত কিছু উক্তি আলোচনা করেছি।

হেরো পুরানো প্রাচীন ধরণী হয়েছে শ্যামল-বরনী, যেন যৌবন-প্রবাহ ছুটিছে কালের শাসন টুটাতে; পুরানো বিরহ হানিছে, নবীন মিলন আনিছে, নবীন বসন্ত আইল নবীন জীবন ফুটাতে – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মধুর বসন্ত এসেছে মধুর মিলন ঘটাতে। মধুর মলয়-সমীরে মধুর মিলন রটাতে। কুহক লেখনী ছুটায়ে কুসুম তুলিছে ফুটায়ে, লিখিছে প্রণয়-কাহিনী বিবিধ বরন-ছটাতে – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

তোমার অশোকে কিংশুকে, অলক্ষ্য রঙ লাগল আমার অকারণের সুখে – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো – জহির রায়হান তোমার প্রজাপতির পাখা আমার আকাশ-চাওয়া মুগ্ধ চোখের রঙিন স্বপন মাখা । তোমার চাঁদের আলোয় মিলায় আমার দুঃখ-সুখের সকল অবসান – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমাকে পাবে না খুঁজে, কেঁদে কেটে মামুলি ফাল্গুনে – হেলাল হাফিজ বসন্ত এলো এলো এলোরে পঞ্চম স্বরে কোকিল কুহুরে মুহু মুহু কুহু কুহু তানে মাধবী নিকুঞ্জে পুঞ্জে পুঞ্জে ভ্রমর গুঞ্জে গুঞ্জে গুনগুন গানে – কাজী নজরুল ইসলাম

হয়তো ফুটেনি ফুল রবীন্দ্রসঙ্গীতে যত আছে, হয়তো গাহেনি পাখি অন্তর উদাস করা সুরে বনের কুসুমগুলি ঘিরে। আকাশে মেলিয়া আঁখি তবুও ফুটেছে জবা, দূরন্ত শিমুল গাছে গাছে, তার তলে ভালোবেসে বসে আছে বসন্ত পথিক – নির্মলেন্দু গুণ

একঝাক পাখি এসে ঐকতানে , গান গায় এক সাথে ভোর বিহনে, অচানক দুনিয়াটা আজব লাগে, আড়মোড়া দিয়ে সব গাছেরা জাগে, লাল নয় কালো নয় সবুজ পাতা, জেগে ওঠে একরাশ সবুজ পাতা – ফররুখ আহমেদ

ফাল্গুনে শুরু হয় গুনগুনানী, ভোমরাটা গায় গান ঘুম ভাঙানি – ফররুখ আহমেদ
সূর্য-ঘড়ি সাত সকালে, ফাগুন রাঙ্গা শাড়ি পড়ে দিন গোনে আজ কার? বাসন্তিরা সবুজ টিপে, লাল সাদা আর হলুদ পাড়ে হাত ধরেছে তার – সংগৃহীত
আজি এ বসন্ত দিনে বাসন্তী রঙ ছুয়েছে মনে; মনে পরে তোমাকে ক্ষণে ক্ষণে চুপি চুপি নিঃশব্দে সঙ্গোপনে – সংগৃহীত
মনের আকাশে ঐ ফাগুন; পিয়াসী পাখি উড়ে যায় সুদূরেতে, কার যেছায়া মাখি! – সংগৃহীত
ফাগুনের রঙে রেঙেছো তুমি, না বলা কথা আজ বলবো আমিঃ হৃদয়ের ডাক শুনবে কি তুমি? – সংগৃহীত
ফুল ফুটুক না ফুটুক আজ বসন্ত – সুভাষ মুখোপাধ্যায়

কহিল সে স্নিগ্ধ আঁখি তুলি- দখিন দুয়ার গেছে খুলি? বাতাবী নেবুর ফুল ফুটেছে কি? ফুটেছে কি আমের মুকুল? দখিনা সমীর তার গন্ধে গন্ধে হয়েছে কি অধীর আকুল? – সুফিয়া কামাল

এখনো দেখনি তুমি?” কহিলাম “কেন কবি আজ এমন উন্মনা তুমি? কোথা তব নব পুষ্পসাজ? – সুফিয়া কামাল

তরী তার এসেছে কি? বেজেছে কি আগমনী গান? ডেকেছে কি সে আমারে? -শুনি নাই,রাখিনি সন্ধান – সুফিয়া কামাল

কহিলাম “ওগো কবি, রচিয়া লহ না আজও গীতি, বসন্ত-বন্দনা তব কণ্ঠে শুনি-এ মোর মিনতি।” কহিল সে মৃদু মধুস্বরে- “নাই হ’ল, না হোক এবারে- আমার গাহিতে গান! বসন্তরে আনিতে ধরিয়া- রহেনি,সে ভুলেনি তো, এসেছে তো ফাল্গুন স্মরিয়া – সুফিয়া কামাল

কহিলাম “ওগো কবি, অভিমান করেছ কি তাই? যদিও এসেছে তবু তুমি তারে করিলে বৃথাই।” কহিল সে পরম হেলায়- “বৃথা কেন? ফাগুন বেলায় ফুল কি ফোটে নি শাখে? পুষ্পারতি লভে নি কি ঋতুর রাজন? মাধবী কুঁড়ির বুকে গন্ধ নাহি? করে নি সে অর্ঘ্য বিরচন? – সুফিয়া কামাল

হোক, তবু বসন্তের প্রতি কেন এই তব তীব্র বিমুখতা?” কহিলাম “উপেক্ষায় ঋতুরাজে কেন কবি দাও তুমি ব্যথা?” কহিল সে কাছে সরি আসি- “কুহেলী উত্তরী তলে মাঘের সন্ন্যাসী- গিয়াছে চলিয়া ধীরে পুষ্পশূন্য দিগন্তের পথে রিক্ত হস্তে। তাহারেই পড়ে মনে, ভুলিতে পারি না কোন মতে – সুফিয়া কামাল

পহেলা ফাল্গুনের শুভেচ্ছা বার্তা

আপনি এতক্ষণ পহেলা ফাল্গুন নিয়ে একটু আলোচনা শুনেছেন। এখন আমরা পহেলা ফাল্গুন নিয়ে বেশ কিছু শুভেচ্ছা বার্তা তুলে ধরেছি। আপনি আপনার প্রিয় বন্ধু এবং বান্ধবীকে পহেলা ফাল্গুনের শুভেচ্ছা বার্তা পাঠাতে চাইলে আমার এই অনুচ্ছেদটি আপনাকে সাহায্য করবে। আমরা এই অনুচ্ছেদে অনেকগুলো পহেলা ফাল্গুনের শুভেচ্ছা বার্তা এবং উক্তি আপনাদের জন্য শেয়ার করেছি।

কত বসন্ত আসে
কত বসন্ত যায়
কত কোকিল পথ হারিয়ে
কণ্ঠ থেমে যায় অবলীলায়
শুধু আমি কোথাও যেতে পারলাম না
তোমাকে ছেড়ে কোথাও না ।

দেখো বসন্তের বাতাস বইছে আজি
এসো বসন্তের রঙে সাজি,
আজ ঘুরে ফিরে চাইছে না যে
আমার এ মনের মাঝি ।

হয়তো ফুটেনি ফুল রবীন্দ্র সংগীতে যত আছে
হয়তো গাহেনি পাখি অন্তর উদাস সুরে
হয়তো কুসুম কলি ঘিরে
আকাশে মেলিয়া আখি
তবুও ফুটেছে জবা, দুরন্ত শিমুল গাছে
তার তলে ভালোবেসে বসে আছে বসন্ত পথিক ।

ধরণী আজ উঠিছে সাজি
মনের দক্ষিণ দার খুলে দেবো আজি
মাতাল হবো সুখে আজকে অনন্ত
সার্থক হবে ফাগুন, সার্থক বসন্ত।

বসন্ত মাস ভালোবাসায় ভরপুর
তুমি আর আমি ঘুরবো সারা দুপুর
বসন্তের ফুল গুজে দেবো তোমার খোপায়
ভালোবাসার এটাই তো সেরা সময়।

ফুল ফুটুক না ফুটুক আজ বসন্ত
শান বাধানো ফুটপাতে
পাথরে ডুবিয়ে এক কাঠখোট্টা গাছ
কচি কচি পাতায় পাজর ফাটিয়ে হাসছে।
ফুল ফুটুক না ফুটুক আজ বসন্ত।

আসমান জমিন মিশে গেছে বসন্তেরই পরশে
সবার হৃদয় ছুয়ে গেছে অকাল প্রেমের আবেশে
ভালোবাসার জোয়ার ওঠে বসন্তের কূলে,
সেই জোয়ারে যুব-যুবতীর প্রাণ ওঠে দুলে।

সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে যেই মেলেছি আখি
সামনে যকে দেখেছে সেজন কি তুমি?
বাসন্তি রঙ শাড়ীতে আজ লাগছে অপরূপা
খোলা চুলে জবা ফুলে বেঁধেছো ঐ খোপা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *