টিপস

শিক্ষক দিবসের কবিতা, ছোট কবিতা, সেরা কবিতা, বিখ্যাত কবিতা

সম্মানিত সুধী আসসালামু আলাইকুম আশা করি সকলে ভালো আছেন আজকের এই পোস্টটিতে আমাদের শিক্ষাগুরু আমাদের প্রিয় মানুষ আমাদের আলোকিত পথ দেখানোর পথ প্রদর্শক শিক্ষক। প্রিয় শিক্ষককে নিয়ে আজকের এই পোস্টটিতে কবিতা ছোট কবিতা সেরা কবিতা শেয়ার করা হয়েছে। এই পোস্টটি থেকে শিক্ষককে নিয়ে সেরা সেরা কবিতাগুলো আপনারা সহজেই ডাউনলোড করতে পারবেন।

শিক্ষককে শ্রদ্ধা জানিয়ে সারা বিশ্বে শিক্ষক দিবস পালন করা হয়। বিশ্বে ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালন হয়। এই দিনে ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষককে শ্রদ্ধা জানিয়ে তার উদ্দেশ্যে শিক্ষক দিবসের কবিতা খুঁজে বেড়ায় অনলাইনে। আজকে এই পোস্টটিতে সুন্দর সুন্দর শিক্ষক দিবসের কবিতা শেয়ার করা হয়েছে।

পৃথিবীতে জন্মের পর থেকে আমাদের প্রথম শিক্ষাগুলো আমাদের মা। আমাদের মুখে বলার বুলি আমাদের ভাষা শেখার সর্বপ্রথম শিক্ষক আমাদের প্রিয় মা। কিন্তু আমাদের অক্ষর জ্ঞান আলোর পথ প্রদর্শক আমাদের প্রিয় শিক্ষক। শিক্ষক আমাদের কাছে শ্রদ্ধার ভালবাসার। শিক্ষক সব সময় ছাত্রদের ভাইয়ের মতো সন্তানের মত স্নেহ করে।

উনারা সব সময় আন্তরিক হয়ে ছাত্রদের শিক্ষা প্রদান করেন। একটি দেশ ও জাতির আলোকিত পথ প্রদর্শক এই শিক্ষক ছাত্রদের মধ্যে জ্ঞানের আলো জ্বালায়। ছাত্রদের মধ্যে সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করে দেশ ও জাতির কল্যাণের জন্য শিক্ষা প্রদান করে।

Related Articles

শিক্ষকরা ছাত্রদের মনুষ্যত্বকে জাগ্রত করে। তারা সব সময় ছাত্রদের মধ্যে সুপ্ত প্রতিভা সুপ্ত জ্ঞান বিবেক বুদ্ধিকে জাগ্রত করে। তাই শিক্ষকরা আমাদের গুরু আমাদের প্রিয়জন ভালোবাসার মানুষ। স্কুল ,কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকরা ছাত্রদের সাথে বন্ধুর মতো আচরণ করে ।

আব্রাহাম লিংকন তার একমাত্র সন্তানকে শিক্ষকের কাছে শিক্ষা প্রদানের জন্য পাঠালে শিক্ষককে চিঠি লিখে পাঠায় যেন তাকে আর সকলের ছাত্রের মত শিক্ষা প্রদান করে। তাকে দেশ ও জাতির সেবার কাজের জন্য শিক্ষা প্রদান করতে বলা হয়। মানুষ হওয়ার জন্য সকলগুলো গুণাবলী আমাদের বিদ্যালয়ে শিক্ষকের কাছ থেকে অর্জন করি।

একজন শিক্ষক আমাদের বুঝতে শিখিয়েছেন যে পড়াশোনাটা কতটা মজাদার হতে পারে। শিক্ষকদের কাছে আমরা পড়াশোনার পাশাপাশি আচার-আচরণ এবং অনেক বিষয়ে জানতে পারি। আমাদের সামাজিক আন্তর্জাতিক বিষয় বলি সম্বন্ধে প্রথম জ্ঞান প্রদান করে আমাদের প্রিয় শিক্ষক। আমাদের নির্বাচন করতে শেখায় ।

আমাদের প্রিয় শিক্ষক সঠিক বিষয়ের উপর সঠিক সিদ্ধান্ত শেখায়। কবির ভাষায় বলতে হয় শিক্ষার জগতে যা কিছু যারা নতুন আশা বাবা-মার পর তারাই শিক্ষক নামে আরেক ভালোবাসা। তারা দেখিয়েছে স্বপ্ন শিখিয়েছে প্রকৃত মানুষ হতে সবার চোখে সম্মানে তার রয়েছে অনেক উঁচুতে। আজকের এই পোস্টটিতে শিক্ষককে নিয়ে ছোট কবিতা সেরা কবিতা এবং শিক্ষককে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য কিছু শুভেচ্ছা বাণী শেয়ার করা হয়েছে।

শিক্ষক দিবসের কবিতা

শিক্ষককে শ্রদ্ধা জানিয়ে ৫ অক্টোবর শিক্ষক দিবস পালন করা হয়। এই দিন ছাত্র-ছাত্রীরা কবিতা নানা ধরনের স্ট্যাটাস এবং এসএমএসের মাধ্যমে শিক্ষককে শুভেচ্ছা জানায়। প্রিয় শিক্ষককে শ্রদ্ধা জানিয়ে আজকের এই পোস্টটিতে শিক্ষক দিবসের কিছু কবিতা শেয়ার করা হয়েছে। আপনারা খুব সহজেই এসব কবিতা ডাউনলোড করতে পারবেন।

শিক্ষক মোদের প্রাণের গুরু
শিক্ষক মোদের প্রাণের গুরু
আর্দশের-ই প্রতীক
তার দেখানো পথে হাঁটে
ছাত্র-ছাত্রী পথিক।
শিক্ষক জ্বালান মনে প্রদীপ
প্রতিভা বিকাশে
শিক্ষক ছড়ান জ্ঞানের আলো
অশিক্ষার আকাশে।
শিক্ষক হলেন আলোর পথের
সত্য নির্ভীক যাত্রী
অনুসরণে পথ চলে
সকল ছাত্র-ছাত্রী।
মায়ের কাছে শিশুর শিক্ষা
জন্ম থেকেই শুরু
মায়ের পরে শিক্ষক হলেন
জ্ঞানের অন্য গুরু।
একটা জাতির জন্য মঙ্গল
আদর্শবান শিক্ষক
একজন শিক্ষক হনযে জাতির
প্রতিভার-ই রক্ষক।
যেসব শিক্ষক আদর্শতায়
শিক্ষা দিতে রত
তাদের দেখলে হয়যে আমার
শ্রদ্ধায় মাতা নত।
শিক্ষক সকল ন্যস্ত থাকেন
জ্ঞান ছড়ানোর চাষে
সম্মান করলে শিক্ষকদেরকে
সাফল্যতা আসে।
শিক্ষক হলেন শ্রদ্ধার পাত্র
শিক্ষার অতি সুজন
শিক্ষকরাই করেন একেকজন
উকিল ডাক্তার সৃজন।
 অপরাজেয় বীর
শিক্ষক আমি আলোর পথের নির্ভীক অভিযাত্রী,
আমার অনুসরণ করে, সকল ছাত্র-ছাত্রী।
পরিবারে শিশুর শিক্ষা জন্ম হতে শুরু,
শিক্ষক হলেন জ্ঞানের আলো বিতরনের গুরু।
জাতির জন্য কল্যাণকর আদর্শবান শিক্ষক,
শিক্ষক আমি আদর্শ ও নৈতিকতার রক্ষক।
শিক্ষক আমি আদর্শ আর নৈতিক শিক্ষায় রত,
শ্রদ্ধা জানাই বিশ্ববাসীর শিক্ষক আছেন যত।
শিক্ষক আমি ব্যাস্ত থাকি জ্ঞান বিজ্ঞান চাষে,
শিক্ষকগনকে সম্মান দিলে সাফলতা আসে।
পরিবর্তিত শিক্ষার ক্ষেত্রে বদলে গেছে শিক্ষা,
নতুন জ্ঞান অর্জন কর, এই হোক মোদের দীক্ষা।
শিক্ষক আমি গড়তে চাই সমৃদ্ধশালী জাতি,
মহান পেশা শিক্ষকতা আঁধার পথের বাতি।
রক্ষক যখন ভক্ষক হয়, অমর্যাদার শুরু,
শিক্ষার আলো ছড়াই মোরা, জাতি গড়ার গুরু।
বঞ্চনা ও বৈষম্যে নিমজ্জিত শিক্ষক শতশত,
দেখি তোরা বঞ্চিত করতে পারিস কতো।
অর্থ নেই সম্পদ নেই, নেই বসত ভিটা নীড়,
শিক্ষক আমি শ্রেষ্ঠ সবার অপরাজেয় বীর।
হে প্রিয় শিক্ষক
হে প্রিয় শিক্ষক কি দিয়ে করব
আপনাকে শ্রদ্ধাঞ্জলি!
আমি আপনাতে আমার ভালবাসা
দিয়েছি জলাঞ্জলি।
হে প্রিয় শিক্ষক
কিসে করব আপনাকে অপমান!
আমার আমিত্ব,জৌলুস
আপনারি যে দান?
হে প্রিয় শিক্ষক
কিসে যাব আপনারে ভুলে,
আপনার মত মহান মানুষ
পাইনি আমার শিক্ষাকূলে?
হে প্রিয় শিক্ষক
কিসে ভুলব আপনার সুদর্শন মুখ!
বাবা হারিয়ে আপনাতে
খুজে ছিলাম সুখ।
হে প্রিয় শিক্ষক
কেমনে দিব বাকি শিক্ষা জীবন পাড়ি!
আমি যে আপনাকে ছাড়া
হয়ে গেছি আনাড়ি।
হে প্রিয় শিক্ষক সামনের পথ
কেমনে চলিব একা! একা!
জীবন নামের রেলগাড়ি
আজ চলছে আঁকা-বাঁকা।
হে প্রিয় শিক্ষক
থাকব আপনাকে দেখার আশে!
বিধাতার কাছে প্রাথর্না করি

বারংবার দেখার সুযোগ আমার যেন আসে?

হে প্রিয় শিক্ষক কি দিয়ে করব
আপনাকে শ্রদ্ধাঞ্জলি!
আমি আপনাতে আমার ভালবাসা
দিয়েছি জলাঞ্জলি।
হে প্রিয় শিক্ষক
কিসে করব আপনাকে অপমান!
আমার আমিত্ব,জৌলুস
আপনারি যে দান?
হে প্রিয় শিক্ষক
কিসে যাব আপনারে ভুলে,
আপনার মত মহান মানুষ
পাইনি আমার শিক্ষাকূলে?
হে প্রিয় শিক্ষক
কিসে ভুলব আপনার সুদর্শন মুখ!
বাবা হারিয়ে আপনাতে
খুজে ছিলাম সুখ।
হে প্রিয় শিক্ষক
কেমনে দিব বাকি শিক্ষা জীবন পাড়ি!
আমি যে আপনাকে ছাড়া
হয়ে গেছি আনাড়ি।
হে প্রিয় শিক্ষক সামনের পথ
কেমনে চলিব একা! একা!
জীবন নামের রেলগাড়ি
আজ চলছে আঁকা-বাঁকা।
হে প্রিয় শিক্ষক
থাকব আপনাকে দেখার আশে!
বিধাতার কাছে প্রাথর্না করি
বারংবার দেখার সুযোগ আমার যেন আসে?

শিক্ষক দিবসের ছোট কবিতা

শিক্ষককে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য অনেকেই facebook স্ট্যাটাস বা ফেসবুকে আমরা আমাদের প্রোফাইলে ছোট কবিতা শেয়ার করি। প্রিয় শিক্ষককে নিয়ে অনেক ধরনের ছোট কবিতা রচনা হয়েছে। শিক্ষক মোদের প্রাণের গুরু আদর্শের প্রতীক। শিক্ষকের দেখানো পথে হেটে ছাত্রছাত্রীরা আলোর পথে চলে। তাই শিক্ষাগুরুকে নিয়ে কিছু ছোট কবিতা শেয়ার করা হলো।

**শিক্ষার জগতে জাগিয়েছে যারা নতুন আশা
বাবামায়ের পর তারাই শিক্ষক নামে আর এক ভালোবাসা

তারা দেখিয়েছে স্বপ্ন
শিখিয়েছে প্রকৃত মানুষ হতে
সবার চোখে সম্মানে তারা রয়েছে অনেক উঁচুতে

তারা বন্ধু হয়ে রয়েছে পাশে রোজ
পেয়েছি হাজারো জ্ঞান আর সঠিক পথের খোঁজ

প্রিয় শিক্ষক
আপনার কাছে থাকবো আমি সর্বদা ছোটো হয়ে
একটু প্রণাম জানাতে চাই আপনার দু পা ছুঁয়ে।

**শিক্ষাগুরু তোমরাই সমাজের আদর্শ
শিক্ষাব্যবস্থার এক গুরুত্বপূর্ণ স্পর্শ
তোমরাই অন্ধকার জগতের আলো
তোমাদের দ্বারাই বুঝি মন্দ ভালো
অগ্রগতির পথের তোমরাই সংগ্রামী
আমরা সেই পথের শুধুই অনুগামী
পরিবারের পড়ে তোমরাই সুচিন্তক
তোমাদের কৃপায় আমরা হই সার্থক।

শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা কবিতা

শিক্ষার জ্যোতি মোদের জীবনের সার
এই জ্যোতির দিব্য আভায় হয় জীবনের উদ্ধার
শিক্ষা বিনা এ জীবন মূর্ছিত পুষ্প-শতদল
যার সান্নিধ্যে ভেড়েনা কভু ভ্রমরেরও দল
শিক্ষাগুরু তুমি মোর দিয়েছো হাতে খরি
পূর্ণনিষ্ঠার সহিত আমি তোমার চরণ স্পর্শ করি
জাতির মেরুদণ্ড তুমি মানুষ গড়ার কারিগর
তোমার জ্ঞানের আলোকপ্রভায় নষ্ট হয় বিকার
জ্ঞানের সাগর তুমি শিক্ষাগুরু মোর
সহস্ত্রবার জানাই প্রনাম তোমায় করি করজোড়।

শিক্ষক দিবসের সেরা কবিতা

অনলাইনে অনেক ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষককে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য শিক্ষক দিবসে সেরা কবিতা খুঁজেন। আমাদের এই ওয়েবসাইটে আপনারা সমসাময়িক এবং বিখ্যাত লেখকের সেরা কবিতা পেয়ে যাবেন। শিক্ষক আমি আলোর পথে নির্ভীক অভিযাত্রী আমার অনুসরণ কর সকল ছাত্র-ছাত্রী।

হ্যাঁ শিক্ষককে অনুসরণ করলেই ছাত্রছাত্রীরা আলোর পথে চলতে পারবে। একজন শিক্ষক জ্ঞানের আলো বিতরণ করে। শিক্ষক আদর্শ ও নৈতিকতার রক্ষক। তাই শিক্ষককে নিয়ে কবিরা কবিতা রচনা করে গেছেন। নিচে কিছু সেরা সেরা কবিতা শেয়ার করা হলো।

ছাত্রকে লেখা চিঠি – কবি সুবোধ সরকার

 

তুমি যেদিন প্রথম এসেছিলে আমার কাছে

তোমার হাতে মায়াকভ্ স্কি

আর চোখে
সকালবেলার আলো |

বিহার থেকে ফিরে এসে তুমি আবার এলে
গলা নামিয়ে, বাষ্প লুকিয়ে
তুমি বলেছিলে বিহারের কথা
খুন হয়ে যাওয়া বাবার কথা
আমি দেখতে পেলাম তোমার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে বিষণ্ণতা |

আবার এলে একদিন, আবারও এলে, আবার, আবার
একদিন চিন নিয়ে কথা হল
একদিন ভিয়েৎনাম
একদিন কম্বোডিয়া
একদিন কিউবা
তোমার চোখে সকালবেলার আলো
তুমি চে-গুয়েভারার ডায়েরি মুখস্ত বলেছিলে  |

কিন্তু কী হল তোমার ?
আসা বন্ধ করে দিলে কেন ?
একদিন ফোন করেছিলাম, তোমার বাড়ি থেকে
আমায় বলল, তিনদিন বাড়ি ফেরনি তুমি
এরকম তো ছিলে না তুমি ? কী হয়েছে তোমার  ?

এইমাত্র জানতে পারলাম
তুমি আমূল বদলে গেছ
তুমি আর আমাকে সহ্য করতে পার না
মায়াকভ্ স্কি পুড়িয়ে ফেলেছ
ভারতের গো-বলয় থেকে গ্রাস করতে ছুটে আসা
একটা দলে তুমি নাম লিখিয়েছ |

আমি কোন দোষ করিনি তো  ?
লিখিয়েছ, লিখিয়েছ |
তুমি কেন আমার বাড়ি আসা বন্ধ করে দিলে ?
আমি কি তোমাকে জোড় করে
কার্ল মার্কস পড়াব ?
ঘোড়াটিকে পুকুর পর্যন্ত ধরে আনা যায়
তাকে কি জোড় করে জল খাওয়ানো যায় ?
ওগো সকালবেলার আলো, তুমি একদিন
আবার কাছে ফিরে আসবে, দরজা খোলা থাকবে আমার
ভালোবাসা নিয়ো  |

আশীর্বাদ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

পঞ্চাশ বছরের কিশোর গুণী নন্দলাল বসুর প্রতি
সত্তর বছরের প্রবীণ যুবা রবীন্দ্রনাথের আশীর্ভাষণ

নন্দনের কুঞ্জতলে রঞ্জনার ধারা,
জন্ম-আগে তাহার জলে তোমার স্নান সারা।
অঞ্জন সে কী মধুরাতে
লাগালো কে যে নয়নপাতে,
সৃষ্টি-করা দৃষ্টি তাই পেয়েছে আঁখিতারা।

এনেছে তব জন্মডালা অজর ফুলরাজি,
রূপের-লীলালিখন-ভরা পারিজাতের সাজি।
অপ্সরীর নৃত্যগুলি
তুলির মুখে এনেছ তুলি,
রেখার বাঁশি লেখার তব উঠিল সুরে বাজি।

যে মায়াবিনী আলিম্পনা সবুজে নীলে লালে
কখনো আঁকে কখনো মোছে অসীম দেশে কালে,
মলিন মেঘে সন্ধ্যাকাশে
রঙিন উপহাসি যে হাসে
রঙজাগানো সোনার কাঠি সেই ছোঁয়ালো ভালে।

বিশ্ব সদা তোমার কাছে ইশারা করে কত,
তুমিও তারে ইশারা দাও আপন মনোমত।
বিধির সাথে কেমন ছলে
নীরবে তব আলাপ চলে,
সৃষ্টি বুঝি এমনিতরো ইশারা অবিরত।

ছবির ‘পরে পেয়েছ তুমি রবির বরাভয়,
ধূপছায়ার চপল মায়া করেছ তুমি জয়।
তব আঁকন-পটের ‘পরে
জানি গো চিরদিনের তরে
নটরাজের জটার রেখা জড়িত হয়ে রয়।

চিরবালক ভুবনছবি আঁকিয়া খেলা করে,
তাহারি তুমি সমবয়সী মাটির খেলাঘরে।
তোমার সেই তরুণতাকে
বয়স দিয়ে কভু কি ঢাকে,
অসীম-পানে ভাসাও প্রাণ খেলার ভেলা-‘পরে।

তোমারি খেলা খেলিতে আজি উঠেছে কবি মেতে,
নববালক জন্ম নেবে নূতন আলোকেতে।
ভাবনা তার ভাষায় ডোবা–
মুক্ত চোখে বিশ্বশোভা
দেখাও তারে, ছুটেছে মন তোমার পথে যেতে।

শিক্ষক দিবসের বিখ্যাত কবিতা

একজন শিক্ষক এই জাতিকে সমৃদ্ধশালী করতে পারে আধার পথের বাতি দেখিয়ে শিক্ষকরা ছাত্রদের আলোর পথে পথ চলাতে সাহায্য করে। শিক্ষকরা আমাদের কখনো সম্পদ দেয় না আমাদের দেয় জ্ঞান যা কখনো কোথাও পাওয়া যাবে না।

শিক্ষক তুমি মহান বিজয় করিলা সারা জাহান তোমারে নিজস্ব গুনেতে। শিক্ষকরা সব সময় মহান হয়। তারা উদার তারা অসীম তারা সব সময় জ্ঞানের ভান্ডার খোলা রাখে ছাত্রদের জন্য। আজকে এই অনুচ্ছেদে প্রিয় শিক্ষককে নিয়ে শিক্ষা দিবসের বিখ্যাত কবিতা শেয়ার করা হলো।

ঘুষ -কবি সুবোধ সরকার

রবীন্দ্ররচনাবলীর নবম খন্ড দিয়ে চাপা দেওয়া সুইসাইড নোট,
ছেলেকে লেখা  | লিখে, হাতে ব্লেড নিয়ে
বাথরুমে ঢুকেছিলেন মাস্টারমশাই
দুপুরবেলা কাজের লোক দরজার তলা দিয়ে
রক্ত আসছে দেখে চিত্কার করে ওঠে |

ছেলেকে লেখা এই তার প্রথম এবং শেষ চিঠি :
‘অরণি,
আমি বিশ্বাস করি সন্তান পবিত্র জলের মতো
যদিও তোমার সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভালো নয়
তবু তোমাকেই লিখে রেখে যাই
গত দু’বছর তোমার মায়ের চিকিত্সাবাবদ
আমার যত্সামান্য সঞ্চয় আপাতত নিঃশেষিত
চিকিত্সার ব্যয়ভার আমি আর নিতে পারছিলাম না |
জীবনে তোমার টাকা ছুঁইনি, মরেও ছোঁব না  |
আমি আজীবন ছাত্র পড়িয়েছি, জ্ঞানত কোনও অন্যায় করিনি |

গত মাসে আমার স্কুলে এক অভিভাবক এসে
ঝুলোঝুলি করেন তাঁর ছেলেকে নেবার জন্য
আমি প্রথম দিন ফিরিয়ে দিই
দ্বিতীয় দিন ফিরিয়ে দিই
তৃতীয় দিন পারিনি | তিনি আমাকে একটা বড় খামে
তিরিশ হাজার টাকা দিয়ে চলে যান |
সেই টাকায় এই মাসে তোমার মায়ের চিকিত্সা চলছে
জানি না তিনি বাড়ি ফিরবেন কি না কোনও দিন
ফিরলে বোলো, পৃথিবীতে আমার বেঁচে থাকার অধিকার চলে গেছে |
ইতি বাবা’
যখন সারাটা দেশ দাঁড়িয়ে আছে টাকার ওপর
তখন রবীন্দ্ররচনাবলী দিয়ে চাপা দেওয়া একটা সুইসাইড নোট |
হাসপাতালে গাছের তলায় গা ছমছম করছিল
এগিয়ে গেলাম সাদা কাপড়ে ঢাকা মাস্টারমশাইয়ের দিকে
একটু বেরিয়ে থাকা পা দুটোর দিকে——

আমাদের এই ওয়েবসাইটে ভিজিট করার জন্য আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। আমাদের এ পোস্টটিতে আপনি শিক্ষক নিয়ে অনেক কবিতা ডাউনলোড করতে পারবেন। সকলে ভালো থাকবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *